Logo

৭৩৯ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:০৮
৭৩৯ জাল সনদধারী শিক্ষকের কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত কয়েক বছরে পরিচালিত পরিদর্শনে এমন ৭৩৯ জন শিক্ষককে শনাক্ত করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ), যাদের কাছ থেকে সরকারের আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

ডিআইএর তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এসব পরিদর্শনের ভিত্তিতে ৮ হাজার ১৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ধরা পড়ে শত শত জাল সনদের ঘটনা এবং ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম।

নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘটনার মধ্যে কুমিল্লার বড়ুরা উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে জাল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার এক শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা আদায়ের কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করে ৪৩ কোটির বেশি টাকা আদায়যোগ্য নির্ধারণ করা হয়। পরের বছর এই সংখ্যা বেড়ে ১২৭-এ দাঁড়ায় এবং আদায়যোগ্য অর্থ প্রায় ৯৬ কোটি টাকায় পৌঁছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০৫টি জাল সনদ ধরা পড়ে, যেখানে আদায়যোগ্য অর্থ ছিল ৮৩ কোটির বেশি।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। এ সময় সর্বোচ্চ ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই আরও ১৪৭টি জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে, ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯-এ এবং আদায়যোগ্য অর্থ বেড়ে প্রায় ৫৩৪ কোটিতে পৌঁছেছে।

শুধু জাল সনদ নয়, একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি দখলের ঘটনাও উদ্বেগজনক। গত পাঁচ বছরে অন্তত ২ হাজার ১৮৬ একর জমি বেহাত হওয়ার তথ্য মিলেছে। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে বহু প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি হারানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোথাও অনুমোদনের সময়ের তুলনায় জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, আবার কোথাও পুরো জমির বড় অংশেরই হদিস মিলছে না।

ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলাম জানান, জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়মিত পরিদর্শন চালিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিবেদনে জাল সনদ এবং জমি দখলের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অনিয়ম শুধু শিক্ষা খাতের সুশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং শিক্ষার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD