চার কারণে বদলি হতে পারবেন না শিক্ষকরা, আসছে নতুন নীতিমালা

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট চার শর্তের কারণে অনেক শিক্ষক বদলির আবেদন করলেও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৬ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, নতুন নীতিমালার আওতায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে শিক্ষকদের বদলি আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
এর মধ্যে রয়েছে— কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সংশ্লিষ্টতা থাকলে, শৃঙ্খলাজনিত কারণে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেনশন) অবস্থায় থাকলে, এমপিওভুক্ত বেতন বন্ধ থাকলে এবং বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির সুযোগ পাবেন না।
বিজ্ঞাপন
সূত্র আরও জানায়, এসব বিষয় উপজেলা পর্যায়ে যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা। যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই বদলির আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করা হবে।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই নীতিমালার বাইরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এমনকি আবেদনপত্রে ত্রুটি থাকলেও বদলির সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
এদিকে বদলি কার্যক্রমকে ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে একটি সফটওয়্যার চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সফটওয়্যারের ১৪টি ধাপ উপস্থাপন করা হয়। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ধাপ অনুসরণ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সফটওয়্যারের প্রাথমিক ধাপগুলোতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে লগইন করতে হবে। এরপর ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ওই তথ্য যাচাই করবেন। তারা শূন্য পদ, শিক্ষকের তথ্য এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবেন। সঠিক তথ্য থাকলে আবেদন অনুমোদিত হবে, অন্যথায় বাতিল করা হবে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্য পর্যবেক্ষণ ও হালনাগাদ করবেন। পরে আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালকরা চূড়ান্ত যাচাই সম্পন্ন করবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নতুন নীতিমালা ও সফটওয়্যার চালু হলে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, পাশাপাশি অনিয়ম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।








