Logo

আরও ২৬২ জাল সনদধারীর শনাক্ত, আসছে এমপিও বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:২৩
আরও ২৬২ জাল সনদধারীর শনাক্ত, আসছে এমপিও বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা খাতে জাল সনদবিরোধী অভিযানে নতুন করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জাল সনদের প্রমাণ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এসব ব্যক্তির তালিকা ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্থগিত, মামলা দায়ের এবং বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। চিঠিতে জাল সনদধারীদের বিস্তারিত তালিকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন প্রতিবেদন, জাল সনদের কপি এবং সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ২৬২ জনের মধ্যে ২৫১ জন শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সনদ জাল করে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন বা করছিলেন। বাকি ১১ জনের ক্ষেত্রে বিএড, বিপিএড, গ্রন্থাগারসহ অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে সরকার প্রায় ৫০ কোটি টাকা ফেরত পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে এনটিআরসিএ সনদ জালকারীদের কাছ থেকেই ৪৮ কোটির বেশি এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডিআইএর পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম জানান, নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব অনিয়ম চিহ্নিত করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেয়ার পরই মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থা কার্যকর হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিআইএর পাঠানো তালিকা অনুযায়ী খুব শিগগিরই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথক নির্দেশনা পাঠানো হবে। যেহেতু এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, তাই এমপিও স্থগিতসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা সেখান থেকেই কার্যকর করা হবে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, জাল সনদ শনাক্তে ডিআইএ ২০১২ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও জোরদার করেছে। এর আগে ২০২৩ সালের শুরুতে স্কুল-কলেজের ৬৭৮ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি খাতের প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকাও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই সময় গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অনেকেই উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করায় কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে মোট ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত করেছে ডিআইএ। এসব ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারের আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা।

ডিআইএর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ৮ হাজারের বেশি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয় এবং প্রায় ১৯৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই আরও ১৪৭টি জাল সনদের তথ্য উঠে এসেছে, যা জালিয়াতি দমনে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD