ভুল প্রশ্ন বিতরণে ৫৮ শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে শঙ্কা

বগুড়ার শেরপুরে দাখিল পরীক্ষার গণিত বিষয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক ভুলের ঘটনা ঘটেছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত সিলেবাসের এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে নিয়মিত সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মোট ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে রাজার দিঘি দাখিল মাদ্রাসা, ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসা, চকসাদি দাখিল মাদ্রাসা এবং উলিপুর আমেরিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার মোট ২৯ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেন। একই সঙ্গে সেখানে ২৯ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকরা প্রশ্নপত্র বিতরণে ভুল করেন। ফলে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা অনিয়মিতদের জন্য প্রণীত এমসিকিউ প্রশ্নে পরীক্ষা দেন। অন্যদিকে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হয় নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র।
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে প্রশ্নপত্র ও সিলেবাস মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ভুলটি বুঝতে পারেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, তারা নিয়মিত সিলেবাস অনুযায়ী সারা বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষার হলে তাদের এমন প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে। এতে ভালো ফল তো দূরের কথা, ন্যূনতম পাস নম্বর পাওয়া নিয়েও তারা শঙ্কিত।
বিজ্ঞাপন
তাদের ভাষ্য, একটি অনিচ্ছাকৃত প্রশাসনিক ভুলের কারণে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন ও পরিশ্রম হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি তাদের মানসিকভাবে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
অভিভাবকরাও এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বোর্ড পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পরীক্ষায় এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। তারা আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনার প্রভাব শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও পড়তে পারে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরীক্ষা চলাকালে বিষয়টি নজরে আসেনি। পরে রাতে বিষয়টি জানা যায়।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার নাঈম হোসেনও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। দ্রুত শিক্ষা বোর্ডে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই প্রত্যাশা—শিক্ষা বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে। কারণ, একটি ভুল যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।







