শিক্ষার্থীরা রিডিং পড়তে না পারলে বেতন পাবেন না শিক্ষকরা

চলতি বছরের মধ্যভাগের মধ্যেই দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে না পারলে এবং গণিতের প্রাথমিক চারটি নিয়মে (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) দক্ষতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি দেশের সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্বকারী মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্পষ্টভাবে জানান, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা দক্ষতায় শতভাগ সফলতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী জুন মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অন্তত ৯০ শতাংশকে বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে সক্ষম করতে হবে এবং জুলাইয়ের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। একইসঙ্গে গণিতের মৌলিক চারটি নিয়মে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ দক্ষতা নিশ্চিতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বিদ্যালয়গুলোতে দৈনন্দিন পাঠদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বই থেকে অন্তত পাঁচ পৃষ্ঠা উচ্চস্বরে পড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে তাদের পড়ার গতি ও উচ্চারণ উন্নত হয়। পাশাপাশি গণিতের ক্লাসে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কাছে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। এসব চিঠিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একাধিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্দেশনা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেই এসেছে এবং তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শিথিলতা রাখা হবে না। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন না হলে দায়ভার শিক্ষকদের ওপর বর্তাবে। সে ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সরকারের নির্ধারিত শিক্ষা লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা না গেলে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।








