Logo

শুধু জিপিএ-৫ নয়, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ মে, ২০২৬, ১৬:৪২
শুধু জিপিএ-৫ নয়, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শুধু পরীক্ষাভিত্তিক ফলাফল কিংবা জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে প্রথাগত শিক্ষা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতির ব্যবস্থাপনায় এই ফোরামের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, বাস্তব দক্ষতা ও বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত হতে পারছে না। এই ব্যবধান দূর করতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

ড. মিলন বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এজন্য কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করলেই হবে না; প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অংশগ্রহণ ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়ন করছে এবং তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বিশ্বায়নের বাস্তবতায় সরকার ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে চীনা ভাষা শেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক চাকরির বাজার এবং উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

ফোরামে বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD