Logo

২০২৮ থেকে নতুন পাঠ্যক্রম, আগামী বছরই যুক্ত হবে চার নতুন বই

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ জুন, ২০২৬, ১৯:১৮
২০২৮ থেকে নতুন পাঠ্যক্রম, আগামী বছরই যুক্ত হবে চার নতুন বই
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম চালুর আগেই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে কয়েকটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে চারটি নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সরকারের প্রথম তিন মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নতুন বই ও পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন বিষয়

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ক্রীড়া’ এবং ‘সংস্কৃতি’ বিষয়ক নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করা হচ্ছে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শীর্ষক দুটি নতুন বিষয়।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মকে কেবল পাঠ্যজ্ঞাননির্ভর না রেখে দক্ষতা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং বাস্তবমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ পর্যাপ্তভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে সংস্কার এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে চায়। এজন্য বিদ্যমান পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয়ও যুক্ত করা হচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হবে।

‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এ থাকবে মূল্যবোধের শিক্ষা

বিজ্ঞাপন

নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি সাধারণ পাঠ্যবিষয় হবে না; বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং ইতিবাচক সামাজিক আচরণ গঠনের একটি সমন্বিত কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

এই কোর্সে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা থাকবে। কীভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হবে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ ও কার্যক্রম পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব

বিজ্ঞাপন

নতুন শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই একটি বিস্তৃত অধ্যায়ের মাধ্যমে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে রাখতে ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ নতুন শিক্ষাক্রম ২০২৮ সালে

পাঠ্যক্রম পুরোপুরি পরিবর্তন আগামী বছর থেকেই কার্যকর হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একটি জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ২০২৭ সালে নতুন যুক্ত হওয়া বিষয়গুলো পরিমার্জিত ও বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর পূর্ণাঙ্গ নতুন শিক্ষাক্রমের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা ২০২৮ সালে বাস্তব রূপ পাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাঠ্যক্রমের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীরা চারটি নতুন বই পাবে।

বিজ্ঞাপন

টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্যে অনীহা

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব টিআইবিরই। সরকার সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের নিজস্ব বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা খাতে দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা

শিক্ষা খাতে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি তদন্ত বা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করবে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা শেষ হওয়ার পর শিক্ষা খাতে পূর্ববর্তী সময়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পে নতুন আশাবাদ

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারে বিপুলসংখ্যক ট্যাব প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা মিলিয়ে এটি একটি বৃহৎ প্রকল্প।

তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে জিডিপির অনুপাতও ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের শিক্ষা অবকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD