কুড়িগ্রামে যমজ তিন বোনের অনন্য কৃতিত্ব, সবাই পেল ট্যালেন্টপুল বৃত্তি

কুড়িগ্রামে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বিরল এক সাফল্যের নজির গড়েছে যমজ তিন বোন। পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তারা তিনজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জেলার জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
বিজ্ঞাপন
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন—তাহিয়া রহমান, তাকিয়া রহমান ও তাবিয়া রহমান। তারা কুড়িগ্রাম জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুর রহমান তারিক এবং গৃহিণী শাহিনা আকতারের কন্যা।
তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবং তাবিয়া রহমান অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই সাফল্য অর্জন করে। বর্তমানে তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং তাবিয়া কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। তাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম পৌর শহরের টেক্সটাইল মোড় এলাকায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তিন বোন জানায়, তাদের বাবা-মা সব সময় পড়াশোনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা ও পরিবারের সার্বিক সহযোগিতাই তাদের এ সাফল্যের মূল ভিত্তি। ভবিষ্যতেও নিষ্ঠা ও মনোযোগের সঙ্গে লেখাপড়া করে আরও ভালো ফল অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছে।
তাদের বাবা অ্যাডভোকেট তারিকুর রহমান তারিক বলেন, একসঙ্গে তিন কন্যার ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন একজন বাবা হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, এ সাফল্যের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তাদের মা শাহিনা আকতারের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য, ত্যাগ ও স্নেহময় পরিচর্যার। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।
কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. গোলেনুর বেগম বলেন, যমজ তিন বোনের এই অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের। বিশেষ করে তাদের বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে।
বিজ্ঞাপন
একসঙ্গে তিন যমজ বোনের এই অসাধারণ কৃতিত্ব শুধু তাদের পরিবারের নয়, পুরো কুড়িগ্রাম জেলার জন্যই গর্বের বিষয়। তাদের এই সাফল্য অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে স্বপ্নপূরণের অনন্য উদাহরণ হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।








