পুলিশি বাধায় শাহবাগ থানার সামনেই বসে পড়লেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ২০২৫ সালের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে রাজধানীতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা শাহবাগ থানা ও জাতীয় জাদুঘরের সামনের এলাকায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা একত্রিত হন। সেখান থেকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে পুলিশি বাধার মুখে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে শাহবাগ থানার সামনে ও জাতীয় জাদুঘরের পাশের এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী দ্রুত যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনকারীদের দাবি, নিয়োগের সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরও তারা এখনো বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ পাননি। নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান, যোগদান এবং পদায়নের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তারা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন অপেক্ষার কারণে তারা পেশাগত ও পারিবারিকভাবে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছেন।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ১১টা থেকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুলিশ সেখানে যেতে না দেওয়ায় তারা বিকল্প স্থানে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
বিজ্ঞাপন
এদিকে একই দিনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫–সংক্রান্ত একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। যোগদান সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে এবং পরে তাদের প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে সরকারের ঘোষিত নতুন যোগদানের তারিখে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর আরও কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের কার্যকর ঘোষণা চান।
আন্দোলনকারীদের মতে, নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত, মৌখিক ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে যোগদান ঝুলে থাকায় হাজারো প্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।







