Logo

পরীক্ষা নয়, এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:১৬
পরীক্ষা নয়, এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন শিক্ষাবর্ষেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের কোনো ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না। আগের বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় কলেজ নির্বাচন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান পদ্ধতিই বহাল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারও আগের নিয়মেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দু-এক দিনের মধ্যেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। তবে ফল প্রকাশের আগে বিস্তারিত জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চলতি বছর ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। শুরুতে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।

বর্তমান ভর্তি পদ্ধতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ দশটি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারবেন। পরে এসএসসি পরীক্ষার ফল, সংরক্ষিত কোটা (যেখানে প্রযোজ্য) এবং শিক্ষার্থীর পছন্দের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এই কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থা দেশের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও মাদ্রাসায় কার্যকর থাকবে। তবে নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি পৃথক নীতিমালা অনুসারে সম্পন্ন হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ভর্তি নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই। তবে বিভিন্ন ধরনের কোটার বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, অল্প সময়ের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হলে প্রশাসনিক ও কারিগরি নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এবারও ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

ফল প্রকাশের সময় পেছানোয় ভর্তি কার্যক্রমের সূচিও পরিবর্তন হচ্ছে। আগে ৩০ জুলাই থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তনের কারণে নতুন সময়সূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফল প্রকাশের পর ছুটি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আবেদন গ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এদিকে শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখেরও বেশি। বিপরীতে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার। তবে পরীক্ষার প্রথম দিনই ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে এবারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ পর্যন্ত কত আসন শূন্য থাকবে, তা নির্ভর করবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হারের ওপর। পাসের হার বেশি হলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়বে, আর পাসের হার কম হলে খালি আসনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD