ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী

দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিতে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খেলাধুলাকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিশুদের ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, খেলাধুলার সময় শুধু শারীরিক অনুশীলন নয়, খেলার মধ্য দিয়ে যে শিক্ষা পাওয়া যায়, সেটিও শিশুদের বোঝানো হবে। মাঠে খেলতে হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাঠ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়ম মেনে চলার মতো বিষয়গুলো শিশুরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখতে পারবে।
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিতে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তার নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে দেশের নেতৃত্ব তৈরিতেও খেলাধুলার অবদান রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলাভিত্তিক শেখার সুযোগ বাড়াতে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দ্রুততম সময়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে এই উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রথম শ্রেণি থেকেই ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে খেলাধুলার অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের মতো বিষয়ও শেখানো হবে।
বিজ্ঞাপন
২০২৮ সালের কারিকুলামকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নতুন প্রজন্মকে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধ তৈরির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কারিকুলামে নৈতিকতার বিকাশে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকায় জায়গার সংকট রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি কোথায় প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে।
বিজ্ঞাপন
এ ক্ষেত্রে পূর্বাচলকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, সেটিও সরকার চিন্তা করছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দক্ষ ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক ও ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখতে পারে।








