Logo

চীনা শিক্ষামডেলে আধুনিক হচ্ছে বাংলাদেশের আট কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৪৪
চীনা শিক্ষামডেলে আধুনিক হচ্ছে বাংলাদেশের আট কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

চীনের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার আদলে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, উন্নত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

বিজ্ঞাপন

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের পক্ষে দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান সমঝোতা স্মারকে সই করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সমঝোতা অনুযায়ী, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ২+২ ও ৩+১ মডেলের কারিগরি শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বৃত্তির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি ও অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশ-চীন সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট একসঙ্গে দেশের দক্ষতা উন্নয়নে গতি সঞ্চার করবে। বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড ও বাস্তবভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে, তিয়ানজিনের মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ এ আন্তর্জাতিক কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে সেখানে একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ও চীনের এই অংশীদারত্ব বাস্তবায়িত হলে দেশের কারিগরি শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, শিক্ষার্থীরা উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD