Logo

পর্দার গল্প কি সত্যি? সিনেমায় এপস্টেইনের কাহিনি খুঁজে পেল দর্শকেরা

profile picture
বিনোদন ডেস্ক
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪:৩১
পর্দার গল্প কি সত্যি? সিনেমায় এপস্টেইনের কাহিনি খুঁজে পেল দর্শকেরা
ছবি: সংগৃহীত

কখনও কখনও পর্দার গল্প বাস্তবের চেয়েও বেশি সত্য হয়ে ধরা দেয়। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ব্লিঙ্ক টুয়াইস-এর ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে। মুক্তির সময় এটি স্রেফ একটি থ্রিলার মনে হলেও ২০২৬ সালে দর্শকরা খুঁজে পেয়েছেন এক ভয়াবহ বাস্তব মিল।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে আলোচিত জেফরি এপস্টেইনের সেই অভিশপ্ত দ্বীপ এবং তার অন্ধকার সাম্রাজ্যের যে কাহিনি আজ সবার মুখে মুখে, তা যেন দুই বছর আগেই ‘ব্লিঙ্ক টুয়াইস’ এ তুলে ধরেছিলেন নির্মাতা জো ক্রাভিটজ। আর তা স্পষ্ট হতেই আলোচনায় সিনেমাটি।

সিনেমাটি মুক্তির দুই বছর পর ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ব্লিঙ্ক টুয়াইস’। সম্প্রতি এপস্টেইন ফাইলস থেকে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং জেফরি এপস্টেইনের কুখ্যাত ব্যক্তিগত দ্বীপের ঘটনার সঙ্গে এই সিনেমার গল্পের হুবহু মিল খুঁজে পেয়েছেন দর্শকেরা।

বিজ্ঞাপন

‘ব্লিঙ্ক টুয়াইস’ সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ফ্রিডা নামের এক তরুণীকে ঘিরে, যাকে টেক বিলিয়নিয়ার স্লেটার কিং তার ব্যক্তিগত দ্বীপে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি মদ আর মাদকের নেশার আড়ালে নারীদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন। আর এই পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যবহার করা হয় স্মৃতি মুছে ফেলার এক বিশেষ কৌশল।

বাস্তব জীবনে জেফরি এপস্টেইনের ‘লিটল সেন্ট জেমস’ দ্বীপের চিত্রও ছিল প্রায় একই রকম। মার্কিন ফেডারেল অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, মডেলিং, চাকরি বা ভ্রমণের প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা ও তরুণীদের ওই দ্বীপে আনা হতো। বিলাসবহুল পরিবেশে প্রভাবশালী অতিথিদের উপস্থিতির আড়ালে চলত সুসংগঠিত যৌন পাচার ও শোষণ।

সিনেমায় দেখানো হয়, ধনকুবের স্লেটার কিং পার্টিতে আগতদের স্মৃতি মুছে ফেলতে ‘স্কোপোলামিন’ নামক একটি ড্রাগ ব্যবহার করেন, যা তৈরি হয় এক ধরনের ফুল থেকে। দর্শকেরা ভেবেছিলেন এটি হয়তো শুধু সিনেমার কাল্পনিক কোনো উপাদান।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে এপস্টেইনের নার্সারিতে ‘ট্রাম্পেট প্ল্যান্ট’ নিয়ে হওয়া ইমেইল চালাচালির তথ্য সামনে আসার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এই ট্রাম্পেট প্ল্যান্ট থেকেই স্কোপোলামিনের মতো হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ তৈরি হওয়া সম্ভব। বাস্তব জীবনের এই তথ্যের সঙ্গে সিনেমার মেমোরি ম্যানিপুলেশনের কৌশল মিলে যাওয়ায় বিষয়টি আর শুধু কল্পনার স্তরে আটকে নেই।

সব মিলিয়ে সিনেমার স্লেটার কিংয়ের দ্বীপ আর বাস্তব জীবনের এপস্টেইন দ্বীপের এই একই চিত্র দর্শকদের রীতিমতো হতবাক করেছে।

বিজ্ঞাপন

এই মিল সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘এপস্টেইন তালিকা ফাঁস করতেই জো ক্রাভিটজ’ ‘ব্লিঙ্ক টুয়াইস’ লিখেছেন। আরেকজন মন্তব্য করেছেন,‘ব্লিঙ্ক টুয়াইস ইকুয়াল এপস্টেইন আইল্যান্ড।’

আবার উদ্ভিদ ও ড্রাগের যোগসূত্র নিয়ে এক দর্শক বিস্ময় প্রকাশ করে লেখেন, আমরা জানতাম সিনেমাটি ওই দ্বীপ নিয়েই, কিন্তু আমি ভেবেছিলাম উদ্ভিদের বিষের বিষয়টি হয়তো পরিচালকের কল্পনা। কিন্তু এটা কীভাবে মিলে গেল!

তবে বলা বাহুল্য, ক্ষমতা, অর্থ আর শোষণের এই অন্ধকার জগৎ নিয়ে নির্মিত ‘ব্লিঙ্ক টুয়াইস’ এমন একটি সিনেমা, যেখানে প্রভাবশালীদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর বাস্তবতা উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD