ইকরার মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন জাহের আলভী

প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ ও আলোচিত একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেতা জাহের আলভী। পোস্টে তিনি ইকরার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন এবং দাবি করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাতে দেওয়া ওই পোস্টে আলভী বাসার সিসিটিভি ফুটেজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিরপুরের বাসার ড্রয়িংরুমে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইকরার মোবাইল ফোনে ছিল এবং সেই ফোন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
অভিনেতার দাবি, গত ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি বাসায় না থাকার সময় ইকরার কয়েকজন বন্ধু সেখানে আসা–যাওয়া করেছেন। ওই সময় বাসায় আড্ডা ও মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। আলভীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কিছু অংশ সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন। সহকারীর দেওয়া তথ্যমতে, সেই সময় ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আলভীর দাবি, তার সহকারী ইতোমধ্যে এসব বিষয় পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই তিন দিন এবং ঘটনার আগের সময়টাতে ইকরার কথাবার্তা ও আচরণ স্বাভাবিক মানুষের মতো ছিল না। তার দাবি, অতীতেও গত ১৫ বছরে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ইকরা, যদিও সেসব ঘটনা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এছাড়া আলভী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার আগের রাতে ইকরা মদ্যপান বা মাদক গ্রহণ করে থাকতে পারেন। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যেন নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ করা হয় এবং কোনোভাবে পরিবর্তন না করা হয়— এমন অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পোস্টে ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সংবেদনশীল বিষয়ও তুলে ধরেন অভিনেতা। তিনি জানান, ২০১০ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স না দিয়েই পরিবারের সম্মতিতে ইকরা অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পরে ইকরা তার কাছে ফিরে এলে সবকিছু মেনে নিয়ে তাকে গ্রহণ করেছিলেন বলেও জানান আলভী। একই সঙ্গে ইকরার এক সহপাঠীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পোস্টের শেষ দিকে নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে আলভী বলেন, পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে।








