‘আমি বন্দী কারাগারে’ গানের শিল্পী এবার সত্যিই কারাগারে

লোকসংগীতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশী চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে গেছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ১০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে মুজিব পরদেশীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ইদ্রিস আলী বিশ্বাস। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিল্পীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন জানান, শুনানির সময় মুজিব পরদেশীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে আদালতকে জানান, মামলার বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন আসামি। এ অবস্থায় জামিন দেওয়া হলে বাদী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
মুজিব পরদেশীর প্রকৃত নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। আশির দশকে বাংলা লোকসংগীতের অঙ্গনে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার কণ্ঠে গাওয়া ‘আমি বন্দী কারাগারে’ গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। এছাড়া ‘কলমে নাই কালি’, ‘সাদা দিলে কাদা’, ‘তোমায় আমি হলেম অচেনা’, ‘আমি কেমন করে পত্র লিখি’, ‘আমার মনের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’ এবং ‘মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে তিনি বাংলা সংগীতাঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিজ্ঞাপন








