Logo

সিনেমা কতটা জঘন্য তা দেখতেই দর্শকদের ভিড়

profile picture
বিনোদন ডেস্ক
১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:১২
সিনেমা কতটা জঘন্য তা দেখতেই দর্শকদের ভিড়
ছবি: সংগৃহীত

নিম্নমানের গ্রাফিকস, এলোমেলো গল্প ও অদ্ভুত নির্মাণশৈলীর কারণে শুরুতে দর্শকদের কাছে সিনেমাটি হাস্যরসের বিষয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই সমালোচনাই শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিনেমাটি কতটা খারাপ, তা নিজের চোখে দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন দর্শকরা। আর এই ব্যতিক্রমী কৌতূহলেই চীনের বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে স্বল্পবাজেটের অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নিউ লাই’।

বিজ্ঞাপন

একটি গরুর স্বপ্নকে ঘিরে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির প্রথম ১০ দিনে আয় করেছিল মাত্র ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান। শুরুতে ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও ছিল খুবই কম।

পরিস্থিতি বদলে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির দুর্বল গ্রাফিকস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও অস্বাভাবিক দৃশ্য নিয়ে নানা রকম হাস্যরস ছড়িয়ে পড়ার পর। সিনেমাটি আসলে কতটা খারাপ, সেটি দেখার কৌতূহল থেকেই প্রেক্ষাগৃহে যেতে শুরু করেন দর্শকরা। অল্প সময়ের মধ্যেই বেড়ে যায় সিনেমাটির দর্শকসংখ্যা।

এরপর আয়ের হিসাবেও ঘটে বড় পরিবর্তন। স্বল্পবাজেটের ‘নিউ লাই’ এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১৪ লাখ ইউয়ানের বেশি আয় করেছে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মন্তব্যও সিনেমাটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সেখানে এক দর্শক মন্তব্য করেন, সিনেমাটি দেখলে হয়তো ৮০ মিনিট আফসোস হবে, কিন্তু না দেখলে সারাজীবন আফসোস করতে হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এই অদ্ভুত কৌতূহলকে কেন্দ্র করেই বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়াই সিনেমাটি চীনের বক্স অফিসে বড় বাজেটের চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত প্রযুক্তির সময়ে ‘নিউ লাই’-এর এমন সাফল্যকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন অনেকে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও নিম্নমানের দৃশ্য থাকা সত্ত্বেও চীনা দর্শকদের কেউ কেউ মজা করে সিনেমাটিকে ‘খাঁটি হাতে তৈরি কারুশিল্প’ বলেও অভিহিত করছেন। চলতি গ্রীষ্মে এটি চীনের অন্যতম অপ্রত্যাশিত বক্স অফিস সাফল্যে পরিণত হয়েছে।

সিনেমাটির জনপ্রিয়তার সঙ্গে চীনের শেয়ারবাজারেরও একটি প্রতীকী সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। চীনা ভাষায় ‘নিউ’ শব্দটির সঙ্গে ‘ষাঁড়’ এবং চাঙা শেয়ারবাজারের প্রতীকের মিল রয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুক্তির শুরুতে সিনেমাটির প্রচারপত্র ও পোস্টারের মানও ছিল নিম্নমানের। কিন্তু দর্শকের চাপ বাড়ার পর অনেক প্রেক্ষাগৃহে অতিরিক্ত শোর ব্যবস্থা করতে হয়। কোথাও কোথাও কর্মীরা কাগজ ও রং ব্যবহার করে নিজেরাই হাতে পোস্টার এঁকে হলের সামনে টাঙিয়েছেন। বড় বাজেটের সিনেমার ঝকঝকে পোস্টারের পাশে এসব হাতে আঁকা পোস্টারও দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সিনেমাটির এমন সাফল্য নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের এক কলামে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, কেবল ব্যবসার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত নিম্নমানের সিনেমা প্রদর্শন করা হলে দীর্ঘমেয়াদে দর্শকদের মধ্যে প্রেক্ষাগৃহের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে হল কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রায় দর্শকহীন অবস্থায় যাত্রা শুরু করা ‘নিউ লাই’ এখন চীনের বক্স অফিসে অপ্রত্যাশিত এক সাফল্যের নাম। সিনেমাটি ভালো না খারাপ—এই বিতর্ককে ছাড়িয়ে দর্শকদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, সিনেমাটি আসলে কতটা খারাপ? সেই উত্তর খুঁজতেই প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন তারা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD