Logo

সময় বদলের সঙ্গে চলচ্চিত্রেও পেশাদারিত্ব বাড়ছে: অপু বিশ্বাস

profile picture
বিনোদন প্রতিবেদক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:২৪
সময় বদলের সঙ্গে চলচ্চিত্রেও পেশাদারিত্ব বাড়ছে: অপু বিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত

সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের কাজের ধরন, নির্মাণপ্রক্রিয়া ও ভাবনা। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, আধুনিক নির্মাণশৈলী এবং পেশাদার কাজের পরিবেশের কারণে দেশের সিনেমায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের মান ধরে রাখতে হলে কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা এবং দেশের সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ঢালিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এ সময় তিনি দেশের কারিগরি দলের দক্ষতা ও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কাজের ধরনে আসা পরিবর্তনের প্রশংসা করেন।

অপু বিশ্বাস বলেন, দেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা কারিগরি কুশলীরা অত্যন্ত মেধাবী। তাঁদের দক্ষতা ও শ্রমের কারণেই দেশীয় চলচ্চিত্রের শিল্পী ও নির্মাতারা নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন। তবে সময় কখনো একই জায়গায় থেমে থাকে না। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিগরি দক্ষতা ও কাজের পদ্ধতিতেও আধুনিকতা আনা প্রয়োজন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, বাংলাদেশের টেকনিশিয়ান ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। অতীতের শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের সাফল্যের পেছনেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত দর্শকচাহিদার কারণে তাঁদেরও নিয়মিত নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্রের বর্তমান কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস জানান, এখনকার অনেক নির্মাণ টিম আগের তুলনায় বেশি পরিকল্পিত ও পেশাদারভাবে কাজ করছে। তাঁর কাছে পেশাদারিত্বের অর্থ হলো দায়িত্ব পাওয়া কাজের প্রতি শতভাগ মনোযোগ ও আন্তরিকতা রাখা। কাজের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়াকেই তিনি প্রকৃত পেশাদারিত্ব হিসেবে দেখেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব টিম চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হচ্ছে, তাদের মধ্যে কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। একটি সিনেমা ভালো করতে হলে শুধু অভিনয় নয়, নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে সমান গুরুত্ব দিতে হয়। প্রত্যেক সদস্য নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেই একটি ভালো চলচ্চিত্র দর্শকের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।

অতীতের চলচ্চিত্র নির্মাণের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অপু বিশ্বাস। তাঁর মতে, একটা সময় নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সিনেমার গল্প ও প্রয়োজনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে লোকেশনসহ বিভিন্ন বিষয় নির্বাচন করা সম্ভব হতো না। অনেক ক্ষেত্রে নির্মাতাদের পরিস্থিতির সঙ্গে সমঝোতা করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে বলে মনে করেন তিনি। নতুন প্রজন্মের নির্মাণ টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী লোকেশন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে তারা। ফলে নির্মাণের মানও আগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অপু বিশ্বাসের মতে, চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে এই ধরনের মানসিকতা আরও বিস্তৃত করতে হবে। শুধু ভালো গল্প বা জনপ্রিয় শিল্পী থাকলেই একটি সিনেমা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ কারিগরি দল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রত্যেকের পেশাদার আচরণ।

বিজ্ঞাপন

দেশীয় টিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর কাছে দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সবসময়ই আলাদা। পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি দেশীয় নির্মাণ টিমের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে আন্তরিকতার একটি বিষয়ও থাকে বলে মনে করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের অভিনয় অভিজ্ঞতার কারণে একটি কাজের ভালো-মন্দ বিচার করার সক্ষমতা তাঁর তৈরি হয়েছে বলেও জানান অপু বিশ্বাস। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই তিনি মনে করেন, দেশের চলচ্চিত্রে বর্তমানে যে পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে, তা আশাব্যঞ্জক। এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে হলে দক্ষতা, আধুনিক চিন্তা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

দেশীয় সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী অপু বিশ্বাস মনে করেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আরও এগিয়ে যাবে। নতুন প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কাজের প্রতি শতভাগ নিবেদনকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের সিনেমা আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD