Logo

প্রেমিকের নির্যাতন, পরিচালকের কুপ্রস্তাব: ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন নীতি

profile picture
বিনোদন ডেস্ক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪৪
প্রেমিকের নির্যাতন, পরিচালকের কুপ্রস্তাব: ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন নীতি
ছবি: সংগৃহীত

স্কুলজীবনে বুলিং, চার বছরের প্রেমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এমনকি অভিনয়ের সুযোগ পেতে পরিচালকের কাছ থেকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব—জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো প্রকাশ্যে এনেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী নীতি টেইলর। তাঁর অভিযোগ, সাবেক প্রেমিক তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি সিগারেটের ছ্যাঁকাও দিতেন। অন্যদিকে, সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে এক পরিচালক তাঁর কাছে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’, ‘গুলাম’ ও ‘বড়ে আচ্ছে লাগতে হ্যায়’-এর মতো টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া নীতি সম্প্রতি ‘হটারফ্লাই’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিজ্ঞতার কথা জানান। স্কুলে হয়রানি, প্রেমের সম্পর্কে নির্যাতন, কাস্টিং কাউচ এবং শুটিংয়ের সেটে সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

নীতি জানান, স্কুলজীবন ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন সময়। কয়েকজন ছেলের প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার পর তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা শুরু হয় বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। তাঁর বাড়ির ফোন নম্বর স্কুলের শৌচাগার ও বাসস্টপসহ বিভিন্ন স্থানে লিখে রাখা হয়েছিল। এরপর বাড়ির ল্যান্ডফোনে আপত্তিকর ফোন আসতে শুরু করে।

এ ছাড়া সহপাঠীদের কেউ কেউ তাঁকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করত, গায়ে পানি ও খাবার ছুড়ে মারত এবং অশ্লীল কথাও লিখত বলে জানান নীতি। এসব ঘটনায় স্কুলবাসে বসে প্রায় প্রতিদিন কাঁদতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অভিনেত্রী জানান, বিষয়টি বাবা-মাকে বলার পর তাঁরা তাঁকে পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে বলেন। পরীক্ষা শেষ হলে শহর ছেড়ে যাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তাঁরা।

‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’র প্রথম মৌসুমের শুটিং চলাকালে একটি নির্যাতনমূলক প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে জানান নীতি। তাঁর অভিযোগ, সাবেক প্রেমিক পোশাক, চলাফেরা ও অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে নিয়মিত আপত্তি জানাতেন।

একবার প্রেমিকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অস্বস্তি বোধ করায় বান্ধবীদের সঙ্গে চলে যেতে চেয়েছিলেন নীতি। কিন্তু প্রেমিক তাঁকে বাধা দেন। পরে ভবনের বাইরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ওই সময় প্রেমিক তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি চড়ও মেরেছিলেন। ঘটনাটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

নীতি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেমিক তাঁকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছিলেন। সেই ক্ষতের দাগ এখনো তাঁর শরীরে রয়েছে। ত্বকে কেলয়েড তৈরি হওয়ার প্রবণতার কারণে দাগটি স্পষ্ট হয়ে আছে বলেও জানান অভিনেত্রী।

শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি সাবেক প্রেমিকের কাছ থেকে নিয়মিত অপমানজনক মন্তব্য শুনতে হতো বলে অভিযোগ নীতির। তাঁর ভাষ্য, প্রেমিক তাঁকে খাটো, মোটা ও দেখতে খারাপ বলে অপমান করতেন। এতে নিজের চেহারা ও যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তিনি।

সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে প্রেমিকের ঘর পরিষ্কার করা, রান্না করা এবং তাঁর বাবা-মা বেড়াতে এলে তাঁদের ঘুরিয়ে দেখানোর মতো কাজও করতেন বলে জানান নীতি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চার বছর পর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে তিনি বুঝতে পারেন, ওই অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এখনো কেউ তাঁর সৌন্দর্যের প্রশংসা করলে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর মতে, বেড়ে ওঠার সময় নিজের মূল্য বুঝতে শেখা জরুরি এবং অন্য কাউকে নিজের আত্মসম্মান নষ্ট করতে দেওয়া উচিত নয়।

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন নীতি। তাঁর অভিযোগ, দুটি সিনেমায় অভিনয়ের পর প্রথম ছবির পরিচালক তাঁকে নতুন একটি সিনেমায় কাজের প্রস্তাব দেন। কিন্তু চরিত্রটি পেতে হলে পরিচালকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে হবে বলে জানানো হয়।

এমন প্রস্তাবে হতবাক হয়ে যান অভিনেত্রী। তিনি জানান, ফোন কেটে দিয়ে পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন এবং ঘটনাটি মাকে জানান। অভিজ্ঞতাটি তাঁকে এতটাই মানসিকভাবে আঘাত করেছিল যে, এরপর আর সিনেমায় কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

‘গুলাম’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সময় এক সহশিল্পীর সঙ্গে সমস্যার কথাও জানান নীতি। তাঁর ধারণা, ধারাবাহিকে তিনি যে মনোযোগ পাচ্ছিলেন, তা ওই সহশিল্পী ভালোভাবে নেননি।

নীতি বলেন, তাঁরা একই মেকআপশিল্পীর কাছ থেকে মেকআপ নিতেন। কিন্তু ওই সহশিল্পী দরজা বন্ধ করে রাখতেন, যাতে মেকআপশিল্পী তাঁর কাছে যেতে না পারেন। একবার মেকআপশিল্পীকে নিজের ঘরে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া সেটে দেরিতে আসা ও উদ্ধত আচরণের অভিযোগ তুলে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও ক্ষোভ জানান অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, তিনি সব সময় সময়মতো কাজ করার চেষ্টা করতেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের জীবনের এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নীতি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের হয়রানি ও নির্যাতন একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মানে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কঠিন সম্পর্ক ও প্রতিকূল অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD