সৌদির আগুনে নওগাঁ-নাটোরের নিহত ১৩ বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি ১৬ শ্রমিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৯ আগস্ট) রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে দগ্ধ হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা বা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা পরবর্তীতে বাড়তে পারে।
নওগাঁর আত্রাইয়ের ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১০ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) এবং একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭)।
কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক। একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) এবং ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫)ও এই ঘটনায় মারা গেছেন।
এ ছাড়া পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১), একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২) নিহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এসব প্রবাসী রিয়াদে গিয়ে ওই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন।
পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া
একসঙ্গে এতজন প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাটোরের নলডাঙ্গায় নিহত তিন যুবক
একই অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন যুবকের মৃত্যুর তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন—দিঘীরপাড় গ্রামের মো. জাকির হোসেনের ছেলে শামীম আহমেদ (৩৫), খাজুরা শ্রীপুরপাড়ার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (৩০) এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয় (২৫)।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান খান এবং খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিন যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিবারের জন্য সৌদিতে পাড়ি, ফিরলেন লাশ হয়ে
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সোহরাব হোসেন জানান, নিহত তিন যুবকই আর্থিক সংকট কাটিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত অবস্থায় রবিবার বিকেলে হঠাৎ আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে কারখানার ভেতরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেখানেই আগুনে পুড়ে মারা যান নলডাঙ্গার ওই তিন যুবক।
নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
বিজ্ঞাপন
মরদেহ দেশে ফেরাতে উদ্যোগ
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান খান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের রিয়াদের ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশে তাদের স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।








