Logo

রাশিয়ায় গ্যাস কারখানায় আগুন, নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ৪

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:২৫
রাশিয়ায় গ্যাস কারখানায় আগুন, নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ৪
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে গ্যাস-রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মাহিন উদ্দিন নামে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মাহিন উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদীতে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসাধীন মাহিনকে দেখতে বুধবার মস্কোর হাসপাতালে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেদিনও তিনি (মাহিন) কথা বলেছিলেন। ভিডিওকলে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।”

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) গত ২৫ অগাস্ট আগুন লাগে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাধীন মাহিনকে দেখতে বুধবার মস্কোর একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব মিজানুর রহমান। তখন মাহিনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সেদিনও মাহিন কথা বলেছিলেন এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস-রাসায়নিক কমপ্লেক্সে গত ২৫ আগস্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারখানাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হন।

বিজ্ঞাপন

পরদিন এক বিবৃতিতে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর জানায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক।

দ্য মস্কো টাইমসের বুধবারের খবরে বলা হয়, এজিসিসি রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। আগামী বছরের শুরুতে চালুর আগে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।

এজিসিসি বলছে, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার দুদিন পর ২৭ অগাস্ট এক বাংলাদেশির মৃত্যু এবং আরেকজনের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন মস্কো বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা মিজান। পরে ওই দুইজনের পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুস নামে তৃতীয় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

২৬ ও ২৭ অগাস্ট মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এবং মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনিতে। আর আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়ায়।

দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নিহত জাকির ও রাজুর লাশ ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানের মাধ্যমে লাশ ঢাকায় পরিবারের কাছে পৌঁছবে।

বিজ্ঞাপন

“অপরদিকে মস্কো হাসপাতালে আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের লাশ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও ৬-৭ দিন লাগতে পারে। তারপর বাংলাদেশে পৌঁছাবে।”

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর অবস্থায় একজন বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতরা চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD