হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম পরিস্থিতি। টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, আর প্রাণ হারাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিশু মারা গেছে সিলেটে। এ সময়ে জেলাটিতে খালি হয়েছে তিন মায়ের কোল। এছাড়া, ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ২ শিশুর। সেইসঙ্গে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে শিশু মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
গতকালই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশব্যাপী মৃত্যু হয়েছে ১২ শিশুর। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ৬ শিশু।
এছাড়া, চারদিন আগে, গত ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৭ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এটিই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৩৬ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে মোট ৫৬ শিশুর শরীরে।
এছাড়া, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২১২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৭১০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ৪৯০ জনের নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩২ হাজার ৮৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৯ হাজার ১৫২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন







