Logo

দেশে চলমান হাম ঠেকাতে যে পরামর্শ দিলেন ডা. তাসনিম জারা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মে, ২০২৬, ১২:৩৫
দেশে চলমান হাম ঠেকাতে যে পরামর্শ দিলেন ডা. তাসনিম জারা
ডা. তাসনিম জারা | ফাইল ছবি

দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় হটলাইন, রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড এবং দ্রুত ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ কৌশল চালুর আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি লেখেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যেখানে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। ভাইরাসটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ত্যাগ করার পরও সেখানে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।

তাসনিম জারা বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি, যাকে হার্ড ইমিউনিটি বলা হয়। তবে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের হার বেশি হলেও চর, পাহাড়, বস্তি ও প্রত্যন্ত এলাকায় ‘টিকাবঞ্চিত পকেট’ থেকে যায়, যেখান থেকে দ্রুত প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি জাতীয় হাম হটলাইন বা কল সেন্টার চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে র‍্যাশের মতো উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অভিভাবকরা উপসর্গ দেখা দিলে নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করবেন এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসকেরা সংক্ষিপ্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে রোগীকে নির্ধারিত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাবেন, যাতে হাসপাতালে ঘুরে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে দেশের কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা গেলে দ্রুত টিকাদান ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং সম্ভব হবে।

তাসনিম জারা ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ কৌশলের ওপরও গুরুত্ব দেন। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশের পরিবার, প্রতিবেশী ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হয়, যাতে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া যায়।

তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডে সংক্রমিত শিশুদের অবাধ চলাচল অন্য রোগীদের ঝুঁকিতে ফেলছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা।

বিজ্ঞাপন

এ সমস্যা সমাধানে তিনি পৃথক হাম চিকিৎসাকেন্দ্র, জাতীয় পর্যায়ে বেড-অ্যাভেইলেবিলিটি ড্যাশবোর্ড এবং বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ে শিশুদের আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। অনেক পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে দেরিতে চিকিৎসা নিচ্ছে, ফলে রোগের জটিলতা ও সংক্রমণ দুটোই বাড়ছে। তাই হামে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যয় সরকারি ব্যবস্থায় বহনের আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কৌশল ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত উদ্যোগ—তাহলেই বাংলাদেশেও এই সংকট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD