শিশুদের ওপর বর্বরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে: ইউনিসেফ

বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, শিশুদের ওপর এই বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৩ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে যেসব স্থান শিশুদের জন্য নিরাপদ হওয়ার কথা, সেখানেই সহিংসতার শিকার হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো
সংস্থাটি ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, চলতি বছরে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন ও শারীরিক সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ আরও জোরদার করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও বিচারব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা এবং কমিউনিটি পর্যায়ের সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি দ্রুত দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউনিসেফ আরও বলেছে, স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, শিশুযত্ন কেন্দ্র ও পাড়া-মহল্লায় জবাবদিহিতা ও নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। তাই পরিবার, কমিউনিটি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রয়োজনে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ইউনিসেফ। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়।
এছাড়া ভুক্তভোগী শিশু ও নারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ইউনিসেফের মতে, এসব তথ্য প্রকাশ করা ভুক্তভোগীদের জন্য নতুন করে মানসিক নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, ভুক্তভোগীদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতা ও জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।






