আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছাদে বেকারি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ

রাজধানীতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে মেডিকেল কলেজ ভবনের ছাদে বেকারি কারখানা দেখতে পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৫টার দিকে তিনি হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
এ সময় তিনি মেডিকেল কলেজের সন্নিকটে থাকা বেকারি কারখানাটি পরিদর্শন করেন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় বেকারি স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিদপ্তর সহ যাবতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া অনুমতিপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামীকালের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বেকারিটি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভেতরে নয়, বরং আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের পাশে অবস্থিত। কারখানাটি থেকে রোগীদের জন্য খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহ করা হতো। তবে স্থাপনাটি হাসপাতাল-সংলগ্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর এই হাসপাতালে সম্প্রতি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ওপর কীভাবে একটি বেকারি পরিচালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি জানান, বেকারিটি বৈদ্যুতিক ওভেনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এটি কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে এবং আদৌ বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ ভবনের ওপর এ ধরনের কারখানা পরিচালনার বৈধতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








