সবজি-ফলে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক

দেশে সবজিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। একইভাবে ফলে ৪ শতাংশ, খেজুরে ৫ শতাংশ এবং শুঁটকি মাছে ১০ শতাংশ বেশি কীটনাশকের উপস্থিতির তথ্যও উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক অ্যাগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন কীটতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পরিচালক ড. নির্মল কুমার দত্ত।
তিনি বলেন, দেশে কীটনাশকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে অনেক পোকামাকড় রাসায়নিক কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। এতে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যবহারে উপকারী পোকামাকড়ও মারা যাচ্ছে, ফলে ক্ষতিকর পোকার বিস্তার বাড়ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ড. নির্মল কুমার দত্ত জানান, ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে নতুন করে ২৫টির বেশি ক্ষতিকর পোকার আগমন ঘটেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দেশে প্রায় ৮ হাজার কীটনাশক অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে যাচাই করে ৪৭ শতাংশ কীটনাশক শতভাগ বিশুদ্ধ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সিটি ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে বালাইনাশক ব্যবহার করা হলেও নকল বালাইনাশকের কারণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পোকামাকড় দমন না হয়ে উল্টো তাদের বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা জাহান বলেন, জৈব বালাইনাশকের অনেক উপাদান প্রকৃতিতেই রয়েছে। তাই কৃষিতে উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
কর্মশালায় বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলম, প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আল মোবাচ্ছের হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন। এ সময় কৃষি বিটের সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।







