Logo

ধ্বংসস্তূপের পাশেই চলছে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১
ধ্বংসস্তূপের পাশেই চলছে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুট হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন উপকরণ। তবে এত কিছুর পরও থেমে নেই শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম। ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাসহ সীমিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির মূল ফটক বন্ধ। কেন্দ্রের ভেতরে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ। বাইরে অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করে স্থানীয় মায়েরা শিশুদের নিয়মিত টিকা এবং চলমান বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইনের টিকা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি দেখতে এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ভিড় করতে দেখা যায়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন ভেঙে ফেলে। পরে এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার পর কেন্দ্রের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানানো হয়। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের বিনা মূল্যে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলে জায়ান চৌধুরীকে হামের টিকা দিতে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ছোটোবেলায় আমাকেও এখান থেকে টিকা দিয়েছেন। পরে আমার বড় ছেলেকেও আমি এখান থেকে টিকা দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে গত পরশু এসে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হলো, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে। কখনও শুনিনি এটি অন্য কারও জমি। আমরা চাই, এখান থেকেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম স্বাস্থ্যসেবা পাক। সরকার দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার করে সেবা নিশ্চিত করুক।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইর সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছি না। নারীরা এলে চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। বাইরে বসে আর কতদিন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, তা বলা যাচ্ছে না।’

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD