Logo

গাইবান্ধা হাসপাতালে টাকা ছাড়া মিলছে না চিকিৎসা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:১৯
গাইবান্ধা হাসপাতালে টাকা ছাড়া মিলছে না চিকিৎসা
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে টাকা না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন। ওষুধের পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও তাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘ সারি, ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যার সংকট এবং বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়ার চিত্র দেখা যায়। রোগীদের ব্যবহারের চাদর ও বালিশ থেকেও দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

রোগীদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পরিবর্তে অনেককেই দ্রুত ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের সার্জারি অংশে গজ, ব্যান্ডেজ ও ওষুধের জন্য রোগীদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার বল্লমঝড় ইউনিয়নের ধানগড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ স্ত্রী মর্জিনা বেগমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, পায়ে ইনফেকশন হওয়ায় স্ত্রীকে জরুরি বিভাগের সার্জারিতে নেওয়া হলে গজ, ব্যান্ডেজ ও ওষুধ বাবদ ৩৫০ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় নামমাত্র চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে হাতে ব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে আসেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিনয় মন্ডল। চিকিৎসকের পরামর্শে সার্জারি বিভাগে গেলে গজ, ব্যান্ডেজ ও ওষুধের জন্য তার কাছ থেকে ৯০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েও টাকা দিতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরেক রোগী আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের কাছে গেলে তার শারীরিক অবস্থা বিস্তারিত না জেনেই ভর্তি দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানান তিনি।

হাসপাতালের বিভিন্ন প্যাথলজি পরীক্ষা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে রোগীদের আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

আজিজার রহমান নামে এক রোগী জানান, পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কাটার পর দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করেও তাকে চেম্বারে চিকিৎসক না থাকার কথা জানানো হয়। জহুরা বেগম বলেন, চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা দিলেও হাসপাতালেই সেগুলো করার সুযোগ পাননি; বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তুলশীঘাটের ভবানীপুর গ্রামের গোলাপী বেগমের ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, পায়ে ইনফেকশন নিয়ে তার মা তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অপারেশনের জন্য অপেক্ষার পর চিকিৎসক বাইরে অপারেশন করানোর পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র দেন বলে জানান তিনি। পরে তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন পাঁচজন। আটজন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও আছেন মাত্র একজন। সার্জারি, ইএনটি, অর্থো-সার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া, চক্ষু, মেডিসিন ও চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগেও চিকিৎসক সংকট রয়েছে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ উর রহমান বলেন, অর্থো-সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় সার্জারির প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে জরুরি বিভাগের সার্জারির জন্য গজ, ব্যান্ডেজ ও অন্যান্য সামগ্রী রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তবে রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহ বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না দিলে সীমিত জনবল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। তবে রোগী বা স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD