৩ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়, দুদিনের আগে মেলে না খাবারও

চিকিৎসক ও কর্মী সংকট, রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম, টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ—নানা সমস্যায় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধের একটি বড় অংশও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এখানে ২২ জন চিকিৎসক, ২৯ জন নার্স ও দুজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন। তবে পিয়নের আটটি পদের বিপরীতে কেউ নেই। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন এবং ওয়ার্ডবয় রয়েছেন মাত্র একজন। অ্যাম্বুলেন্স চালক, বাবুর্চি ও মেকানিকের পদও শূন্য রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের টিকিট কাউন্টারে ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়। কাউন্টারে টিকিটের মূল্য ৩ টাকা লেখা থাকলেও কয়েকজন সেবাপ্রার্থী ৫ থেকে ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। একজন রোগীর স্বজনের দাবি, জরুরি বিভাগে টিকিটের জন্য ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে। আরেকজন জানান, দুটি টিকিটের জন্যও ১০ টাকা দিতে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভর্তি রোগীদের খাবার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের কয়েকজন জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যথাসময়ে খাবার পাওয়া যায় না। জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগী জানান, প্রথম দিন খাবার না পেলেও পরদিন সকালে রুটি, কলা ও ডিম দেওয়া হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তারা খাবার পাননি।
ওয়ার্ডের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রোগীদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, মেঝে ও টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া ওষুধের বেশিরভাগই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন রোগী ও স্বজন।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জনবল সংকটের কারণে রোগীদের খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসমত জাহান ভূঁইয়া জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এখনো ৫০ শয্যার অনুমোদন পায়নি; কার্যক্রম চলছে ৩০ শয্যার কাঠামো অনুযায়ী। পিয়ন, বাবুর্চি ও ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে লোকবল নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, আবাসিক ভবনেও নানা সমস্যা রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত থাকার ব্যবস্থা নেই এবং ভবনের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ভাঙা। হাসপাতালের কয়েকটি বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
মানিকগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল আজিজ জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৪২ জন কর্মীর চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ অন্যান্য অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।








