Logo

দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কুড়িগ্রামের বসতভিটা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:০৫
দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কুড়িগ্রামের বসতভিটা
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। বারবার বসতভিটা হারিয়ে নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদীতীরের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে অরক্ষিত ৭০টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাণিয়াপাড়া গ্রামে গত এক বছরে ভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিনেই নদীগর্ভে চলে গেছে আরও সাতটি বাড়ি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরের আরও প্রায় ৫০টি পরিবার।

ভাঙন ঠেকাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বর্তমানে ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা বাজেট না থাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগও বাড়ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাণিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম মাহাবুব, আহাদ ও বাদশাসহ অনেকে জানান, মুহূর্তের মধ্যেই নদীর পাড় ধসে বাড়িঘর নদীতে চলে যাচ্ছে। কোনো কিছুই ঠিকমতো আটকানো যাচ্ছে না। মানুষের সহযোগিতা নিয়ে নিজেদের বসতঘর সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ যথাযথভাবে না হওয়ায় আবারও নদীভাঙন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

তারা জানান, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও প্রায় শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা শাহা আলম বলেন, “আমার বাড়িঘর ভেঙে গেছে, পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি। এখনো থাকার জন্য জায়গা পাইনি, অন্য জায়গায় ঘর করে আছি। ধারদেনা করে ঘর সরিয়েছি।”

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য লেবু মিয়া বলেন, বারবার বসতভিটা হারিয়ে পরিবারগুলো আরও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। নতুন জায়গা কেনা, ঘর নির্মাণ, নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। কিন্তু হতদরিদ্র এসব পরিবার সরকারি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য একটি ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিপিপির সংস্কারকৃত কাজ বাস্তবায়িত হলে বাণিয়াপাড়ায় দুধকুমার নদীর ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD