৫ কোটি টাকার পানি প্রকল্প ৩ বছর ধরে অচল

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরবাসীর নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি চালুর এক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় তিন বছর ধরে অচল থাকায় প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না পৌর এলাকার প্রায় ২৫ হাজার বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
ভূগর্ভস্থ পানি পরিশোধনের মাধ্যমে আয়রনমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মাধবপুর পৌরসভার জায়গায় স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে এটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ শেষে ২০২২ সালের ২৮ জুন প্ল্যান্টটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্ল্যান্টটির প্রতি ঘণ্টায় ২ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গভীর নলকূপ থেকে পানি তুলে পরিশোধনের পর ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাংকে সংরক্ষণ করার কথা ছিল। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীর মধ্যে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হস্তান্তরের পর প্ল্যান্টটি চালু হলেও প্রায় এক বছর পর ২০২৩ সাল থেকে তা আর সচল হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা তিনটি গভীর নলকূপও বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের পাইপলাইনও পুরোপুরি স্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র রায় বলেন, প্ল্যান্ট চালুর পর কিছুদিন পৌরবাসী পানি পেলেও পরে এটি দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তিনটি গভীর নলকূপও নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত প্ল্যান্টটি মেরামত করে নিয়মিত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
পৌর নাগরিক নয়ন মিয়া বলেন, জনগণের অর্থে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দুঃখজনক। বছরের পর বছর পড়ে থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে সরকারি অর্থের অপচয় আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি কেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
মাধবপুরের সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক বলেন, প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় পৌরবাসী দুর্ভোগে রয়েছেন। তাঁর দায়িত্বকালেও এটি চালু ও সচল রাখার বিষয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাধবপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্ল্যান্টটি চালুর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মাধবপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মাধবপুরে যোগদানের পর তিনি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ওভারহেড ট্যাংক পরিদর্শন করেছেন। প্ল্যান্টটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুত কীভাবে এটি সচল করা যায়, তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
মাধবপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী তুষার পাল বলেন, প্ল্যান্টটি মেরামতের জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে সংস্কারের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্ল্যান্টটি সংস্কার, নষ্ট গভীর নলকূপগুলো মেরামত এবং অসম্পূর্ণ পানি সরবরাহ অবকাঠামোর কাজ শেষ করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।








