ময়লা না ফেলার সাইনবোর্ডের নিচেই ময়লার স্তূপ

‘মহাসড়কের পাশে ময়লা না ফেলার জন্য অনুরোধ করা হলো’—সড়ক ও জনপথ বিভাগের এমন সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের পাশে। অথচ সাইনবোর্ডের ঠিক নিচেই জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। আশপাশেও ছড়িয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, পচা বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনা।
বিজ্ঞাপন
কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ও ভোরের দিকে বিভিন্ন যানবাহনে করে ময়লা এনে এখানে ফেলা হয়। ফলে দিনের বেলায় সাইনবোর্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রাতের আঁধারে তা কার্যত উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকে সামনে রেখে একই এলাকায় দীর্ঘদিনের ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। সফরের এক মাস না পেরোতেই সেই বালুর ওপর আবারও নতুন করে আবর্জনা জমেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় পথচারী ইমরান হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে কয়েক দিন এখানে ময়লা ছিল না। এখন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও তার নিচেই ময়লা ফেলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী বাজার ও আশপাশের বাসাবাড়ির বর্জ্যের পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও এখানে ফেলা হতো। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পথচারী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ময়লা না ফেলার নির্দেশনা দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও তা কার্যকর করতে নিয়মিত নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন। তাঁদের অভিযোগ, তদারকির অভাবেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিদিন মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লাবনী আক্তার তারানা বলেন, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জায়গাটি বন্দোবস্ত হলে সেখানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড ও জেলখানা সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ময়লা না ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে দুই জায়গাতেই বালু ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ময়লা না ফেলতে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।
তিনি বলেন, জেলখানা সংলগ্ন স্থানে বর্তমানে ময়লা ফেলা হচ্ছে না। তবে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাইনবোর্ডের নিচেই আবার বর্জ্য জমছে। স্থানটি পরিষ্কার রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পৌর প্রশাসককে পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কটিয়াদীতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় মহাসড়কের পাশে বর্জ্য জমার সমস্যা দীর্ঘদিনের। চলতি বছরের জুনেও স্থানীয় গণমাধ্যমে একই এলাকায় বড় ময়লার ভাগাড় ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি উঠে এসেছিল।








