তেলের দাম বাড়ায় হিসাব করে জ্বালানি কিনছেন ক্রেতারা

জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন যশোরের সাধারণ মানুষ। বাড়তি দামের প্রভাব পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে এখন খরচ কমানোর পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে পেট্রোলপাম্পগুলোতে কমেছে ক্রেতার চাপ।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণার পর বর্ধিত মূল্য কার্যকর হওয়ার আগেই পুরোনো দামে তেল কিনতে পাম্পগুলোতে ভিড় করেন অনেকে। তবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সেই চিত্র আর দেখা যায়নি। পাম্পগুলোতে তুলনামূলকভাবে ক্রেতা কম। যারা তেল কিনতে আসছেন, তাদের বেশিরভাগই বাড়তি দামের বিষয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করে জ্বালানি নিচ্ছেন।
শহরের মণিহার এলাকায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘এক লাফে ২০ টাকা লিটারে বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই। এতে আমাদের মতো নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জানের জ্বালা উঠে যাবে। শুধু তো তেল নয়, এর সঙ্গে বাড়বে পরিবহন ভাড়া, তারপর জিনিসপত্রের দাম। আমরা কোথায় যাবো?’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো হলেও আমাদের তো আয় বাড়েনি। বর্তমান সময়ে আমাদের মতো অল্প আয়ের মানুষদের সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর এই বাড়তি খরচ কীভাবে সামলাবো বুঝে উঠতে পারছি না।’
বিজ্ঞাপন
মণিহার এলাকার যাত্রিক পেট্রোলিয়াম সার্ভিসের বিক্রয়কর্মী শামীম হোসেন জানান, মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসার রাতে পুরোনো দামে জ্বালানি নিতে পাম্পে বেশ ভিড় হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই চাপ নেই। পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে, কিন্তু আগের তুলনায় ক্রেতা কমে গেছে।
তিনি বলেন, যারা এখন তেল কিনতে আসছেন, তারা প্রয়োজন ও খরচ হিসাব করে জ্বালানি নিচ্ছেন। ফলে আগের মতো বেশি পরিমাণে তেল কেনার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শহরের শংকরপুর এলাকার স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘এখন হিসাব করে মোটরসাইকেল চালাতে হবে। যেখানে ইজিবাইকে যাওয়া যায়, সেখানে গাড়ি নেবো না ভাবছি।’
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে কাটছাঁটের পাশাপাশি গণপরিবহন ও পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে দৈনন্দিন চলাচল ও অন্যান্য খরচে হিসাব-নিকাশ করে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।








