ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ডাকা ধর্মঘট আগামী সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর।
বিজ্ঞাপন
ধর্মঘটের কারণে দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালের রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। মরদেহ বাড়িতে নেওয়া কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়েন অনেকে। কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
বুধবার সকাল থেকেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পুরোনো ও নতুন ভবন এবং বহির্বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় রোগীর স্বজনদের। কয়েকজনের অভিযোগ, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও তাঁরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।
নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট
বিজ্ঞাপন
বাদল মাদবর এর আগে জানিয়েছিলেন, ঢাকা মেডিকেলের প্রায় চার হাজার রোগীকে সেবা দিতে তাঁদের সমিতির ১২০ থেকে ১৩০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত থাকে। কিন্তু নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখলে পুলিশ মামলা দেয় এবং গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠায়।
তিনি বলেন, হাসপাতালের পুরোনো ভবনের পাশে একটি জায়গা তাঁরা নিজেদের খরচে সংস্কার করেছিলেন। পরে সেখান থেকেও অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারকে রাজস্ব দিতে রাজি থাকলেও তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চান।
যা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছিলেন, সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিধান নেই। তবে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ব্যবসা করতে নিষেধ করা হচ্ছে না; তাঁদের হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করতে হবে।
বিষয়টি দেখার জন্য শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেলে আরও অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক।
ধর্মঘট সাত দিনের জন্য স্থগিত হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। তবে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।








