Logo

রাজনৈতিক চাপে মানহীন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯:৪৭
রাজনৈতিক চাপে মানহীন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। চিকিৎসা শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ সিদ্ধান্তের কারণে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে চাপ আসছে। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল কলেজ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল ছাড়াই মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হবে, আর শিক্ষার্থীরা রোগী না দেখেই চিকিৎসক হয়ে যাবেন—এমন ব্যবস্থা চলতে পারে না। চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব হাসপাতালভিত্তিক প্রশিক্ষণের সংযোগ থাকা জরুরি।

দেশে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক বণ্টনে ভারসাম্যহীনতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। বিপরীতে বাকি সাতটি বিভাগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বণ্টনে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি তোলার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বরং প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের মানদণ্ড অনুসরণ করে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD