Logo

আগামী ১০ বছরের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে চায় সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:৪১
আগামী ১০ বছরের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে চায় সরকার
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড পরিমাণ বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চটকদার ও জনতুষ্টিমূলক কর্মকাণ্ডের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য আগামী ১০ বছরের জন্য টেকসই, কার্যকর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ প্রাপ্তির উপায় ও ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে ৭০ হাজার কোটি টাকার সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। এই বিপুল অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শুধু অর্থ ব্যয় করার জন্য টাকা খরচ করা কিংবা অপরিকল্পিতভাবে বড় বড় ভবন নির্মাণ ও দামি যন্ত্রপাতি কেনা জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে না। স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ হতে হবে পরিকল্পিত ও জনস্বাস্থ্যের প্রকৃত প্রয়োজনভিত্তিক।

বিজ্ঞাপন

উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করছেন। শুধু হাসপাতাল নির্মাণ কিংবা ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

বরং প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় নিয়মিত ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর মতে, জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ এখন সময়ের বড় দাবি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিগত সময়ে বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়াই সেক্টরওয়াইড প্রোগ্রাম ও অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ করে দেওয়ার সমালোচনা করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে টিকাদান কর্মসূচি থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন স্তরে বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিঘ্ন ঘটেছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শুধু সদিচ্ছা থাকলেই প্রশাসন পরিচালনা করা যায় না; প্রতিটি সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো পরিবর্তন আনার আগে তার সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি।

আগামী দিনে স্বাস্থ্যখাত কোন কাঠামো ও পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের আবারও গোলটেবিল বৈঠকে বসার আহ্বান জানান এম এ মুহিত। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রস্তাবনা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD