বাংলাদেশ সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ

বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারকেরা। সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ পচে যাওয়ার পথে, আর বাধ্য হয়ে রপ্তানিকারকেরা সেগুলো প্রতি কেজি মাত্র ২ রুপিতে বিক্রি করছেন।
বিজ্ঞাপন
মালদহের সঙ্গে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ সীমান্ত সংযুক্ত। এখানকার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ ক্রসিং দিয়ে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় পচনশীল পেঁয়াজের বস্তা স্তূপ হয়ে আছে, এবং ৫০ কেজির প্রতিটি বস্তা মাত্র ১০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
যেখানে মালদহ শহরের স্থানীয় বাজারে একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০–২২ রুপি, সেখানে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত অঞ্চলে চলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
বিজ্ঞাপন
রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা মৌখিকভাবে পেঁয়াজ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ইন্দোর ও নাসিক থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। কিন্তু এখন সীমান্ত বন্ধ থাকায় পচন ধরেছে এসব পেঁয়াজে।
মালদহের রপ্তানিকারক সিরাজুল শেখ বলেন, বছরের এই সময়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। অনেকে ৫০, কেউ ৭০ ট্রাক—আরো বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। এখন পচে যাওয়ার কারণে আমরা ২, ৬, ৮ বা ১০ রুপিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তেলের খরচও উঠবে না।
আরেক রপ্তানিকারক জাকিরুল ইসলাম জানান, দু’মাস আগেও প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতাম। এখন সেই সব ট্রাকের পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে, আর নামমাত্র মূল্যে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রপ্তানিকারকেরা জানান, ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগ সাময়িকভাবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এরপর থেকেই সীমান্তে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির মহাসচিব উজ্জ্বল সাহা বলেন, বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ রুপিতে বিক্রি করছেন—এটা অকল্পনীয় ক্ষতি। দ্রুত সীমান্ত না খুললে অনেক রপ্তানিকারক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : মিলেনিয়াম পোস্ট, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড








