ইরানের হামলায় কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে সব ক্রু সদস্য জীবিত আছেন বলে জানিয়েছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে কতগুলো যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সাঈদ আল-আতওয়ান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
ভৌগোলিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি ভিডিওতে দেখা যায়—সম্ভবত এফ-১৫ই মডেলের একটি যুদ্ধবিমান আগুন ধরে ঘুরতে ঘুরতে নিচে পড়ছে। এটি কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।
আরেকটি ভিডিওতে ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের মরুভূমি এলাকায় এক পাইলটকে প্যারাসুটসহ দেখা যায়। তৃতীয় ভিডিওতে দূরে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং সেখানে একজন পাইলটকে উপস্থিত জনতার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান—এফ-১৮, এফ-১৬, এফ-২২, এফ-৩৫ ও এ-১০—এবং রণতরী মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানের এক হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
বিদেশে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা সাধারণত উচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি ডলার। এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।








