সরকারি জামানতে বাকিতে পণ্য কেনার সুবিধা চালু করল ইরান

অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নাগরিকদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইরান সরকার। সরকারি সহায়তার আওতায় থাকা পরিবারগুলোকে এবার ‘বাকিতে কেনাকাটা’ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ঋণের নিশ্চয়তায় রাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকার একটি নতুন কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় নির্দিষ্ট শ্রেণির নাগরিকরা প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য দোকান থেকে বাকিতে সংগ্রহ করতে পারবেন। পরবর্তীতে তারা কিস্তির মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করবেন, আর এ ক্ষেত্রে সরকার জামিনদার হিসেবে সহায়তা দেবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা সরকারি ভর্তুকি বা আর্থিক সহায়তা পান, তারা প্রতি দুই মাস অন্তর একবার করে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কেনাকাটার পরিমাণ তাদের প্রাপ্ত সহায়তার অঙ্কের বেশি হতে পারবে না। এর ফলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এই কর্মসূচির অর্থায়নে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হয়েছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো এই ব্যবস্থায় অর্থ সরবরাহ করবে, যা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগকে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিছুটা লাঘবের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তেহরানভিত্তিক অর্থনৈতিক দৈনিক ‘ডোনিয়া-ই-ইকতেসাদ’ চলতি বছরে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য তিনটি চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
অন্যদিকে, যদি বর্তমানের মতো অনিশ্চিত পরিস্থিতি—যেখানে সরাসরি যুদ্ধ নেই, আবার পূর্ণ শান্তিও নেই—চলতে থাকে, তবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে সংঘাত তীব্র হলে দেশটি অতিমূল্যস্ফীতির মুখে পড়তে পারে, যেখানে মূল্যস্ফীতির হার ১২৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি








