৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে ২০ বছর অপেক্ষা করতে বলল হাইকোর্ট

ভারতে একটি মানহানির মামলার শুনানি নিয়ে ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছে বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত ৯০ বছর বয়সী এক নারীকে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আরও ২০ বছর অপেক্ষা করতে বলেছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিচারপতি জিতেন্দ্র জৈন-এর একক বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালতের ভাষ্য, এই মামলা মূলত ‘অহংকারের লড়াই’, যা বিচারব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাহত করছে। নির্দেশনায় বলা হয়, মামলাটি ২০৪৬ সালের পর কোনো এক সময়ে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তারিনিবেন (৯০) ও ধ্বনি দেশাই (৫৭) এই মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, ২০১৫ সালে শ্যাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভায় ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কারণে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় তারা ২০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে কিলকিলরাজ ভানসালি ও আরও কয়েকজন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রায়ে বিচারপতি উল্লেখ করেন, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এমন বিরোধ বিচারব্যবস্থাকে জটিল করে তুলছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। তার মতে, যেসব মামলা অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেগুলো এ ধরনের বিরোধের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে আদালত উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়েছিল। এমনকি ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আনা হয়। কিন্তু প্রবীণ বাদী মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
বিজ্ঞাপন
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, শুধুমাত্র ‘অতি প্রবীণ নাগরিক’ হওয়ায় এই মামলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না। বিচারপতি জৈন বলেন, “এই মামলাটি আগামী ২০ বছর তালিকাভুক্ত করা হবে না; ২০৪৬ সালের পর কোনো এক সময় শুনানিতে তোলা হবে।”
এর আগেও এই মামলা নিয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। গত বছরের মার্চে একটি বেঞ্চ সতর্ক করে জানিয়েছিল, পরবর্তী শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী উপস্থিত না থাকলে মামলা খারিজ করা হতে পারে। ২০১৯ সালেও সাক্ষীর তালিকা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। তবুও দীর্ঘদিনেও মামলাটির কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি








