Logo

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যয়, প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ২০০

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫:৫৩
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যয়, প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ২০০
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’ ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্লাবিত হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ রোববার জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যাঞ্চল। পানি কমতে শুরু করলেও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন রাস্তা ও ভূমিধসের ক্ষতিপূরণে কাজ করছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানায়, কেলানি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীর উত্তরাঞ্চলও তলিয়ে গেছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়টি ভারতমুখী হয়ে গেছে, উজানে ভারী বৃষ্টি চলমান থাকায় তীরবর্তী নিচু এলাকা এখনও প্লাবিত।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন্যায় সম্পত্তি ও ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানাম্পিটিয়া শহরে পানি কমতে শুরু করলেও বহু বাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত। পাশাপাশি দেশের জাতীয় রক্ত সঞ্চালন সেবা সংকটে পড়েছে; দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র সামান্য রক্ত সংগ্রহ করা গেছে।

পাহাড়ি ঢাল ও ভূমিধসের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিসানায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও দুটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে, আরও দুই হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও জাপানও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, চলমান বন্যায় ২৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস এবং ১ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাস্তুচ্যুত আরও ৯ লাখ ৬৮ হাজার মানুষ সহায়তার অপেক্ষায়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত।

২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। চলতি শতকের শুরুর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা ঘটেছিল ২০০৩ সালের জুনে, যখন ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD