যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা নেয় অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পরিবার: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর প্রায় ৫৪ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সময় রবিবার (৪ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য তুলে ধরেন ট্রাম্প। পোস্টটিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশে জন্ম নেওয়া অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার সংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যান শেয়ার করেন।
ট্রাম্পের প্রকাশিত এই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আলোচনার জন্ম দেয়। সমর্থক ও সমালোচক—দুই পক্ষই বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ এটিকে অভিবাসন নীতির কঠোরতার পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এই পরিসংখ্যানের পেছনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের শেয়ার করা তথ্যে বলা হয়েছে, মার্কিন সরকার অভিবাসীদের জন্য খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দিয়ে থাকে। এসব তথ্যের তালিকায় বিশ্বের ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের অভিবাসী পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে তালিকাটি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের নাম থাকলেও ভারতের নাম তালিকায় নেই। কেন ভারতের অভিবাসী পরিবারগুলো এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি—সে বিষয়ে ট্রাম্প বা তার পোস্টে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি ভুটানি অভিবাসী পরিবারগুলোর। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভুটানি পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইয়েমেনি পরিবার (৭৫ দশমিক ২ শতাংশ) এবং সোমালি পরিবার (৭১ দশমিক ৯ শতাংশ)।
বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের পরিসংখ্যানেও ভিন্নতা দেখা গেছে। ট্রাম্পের পোস্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা গ্রহণের হার ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ দশমিক ২ শতাংশ এবং নেপালের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পরিসংখ্যান অভিবাসীদের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অবস্থার একটি দিক তুলে ধরলেও, তা দিয়ে অভিবাসন নীতির পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। অনেক অভিবাসীই নতুন দেশে এসে প্রাথমিকভাবে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা কর্মসংস্থানে যুক্ত হন এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বিজ্ঞাপন
তবুও ট্রাম্পের এই পোস্ট নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার এমন বক্তব্য অভিবাসন ইস্যুকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।








