দু’দুর্ধর্ষ খুনির কারাগার প্রেম, বিয়ের জন্য মিলল জামিন

ভারতে এক চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে কারাগারের ভেতরে গড়ে ওঠা দুই দুর্ধর্ষ খুনির প্রেমকাহিনী। এই বিয়ের কনে শাস্তি ভোগ করছেন ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর এক যুবককে হত্যার দায়ে। অন্যদিকে প্রেমিকার স্বামী-সন্তানসহ ৫ জনকে হত্যার দায় বরের মাথার ওপর।
বিজ্ঞাপন
ছয় মাসের প্রেম শেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রিয়া শেঠ ও হনুমান প্রসাদ। এই বিয়ের জন্য তাদের ১৫ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন রাজস্থান হাইকোর্ট।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেভ এলাকায় তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশায় মডেল ছিলেন প্রিয়া শেঠ। ২০১৮ সালে ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে পরিচয়ের সূত্র ধরে দুষ্যন্ত শর্মা নামে এক যুবককে অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই কারাগারে পরিচয় হয় হনুমান প্রসাদের সঙ্গে। সেখান থেকেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৮ সালের ২ মে প্রিয়া শেঠ তার প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরা ও সহযোগী লক্ষ্য ওয়ালিয়ার সহায়তায় দুষ্যন্ত শর্মাকে হত্যা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুষ্যন্তকে একটি ফ্ল্যাটে ডেকে এনে অপহরণ করা হয় এবং তার বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুষ্যন্তের বাবা তিন লাখ টাকা দিলেও, মুক্তি দিলে সে পুলিশে জানাতে পারে—এই আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড় এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। পরিচয় গোপন রাখতে মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং প্রমাণ নষ্ট করতে ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয়। পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বর হনুমান প্রসাদ কারাদণ্ড ভোগ করছেন তার প্রেমিকার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার দায়ে। বয়সে ১০ বছর বড় তার প্রেমিকার নাম সন্তোষ, যিনি আলওয়ারের একজন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় ছিলেন।
২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে স্বামী ও সন্তানদের হত্যার জন্য হুনুমানকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন সন্তোষ। হনুমান প্রসাদ তার এক সহযোগীকে নিয়ে সেখানে যান এবং ছুরি দিয়ে সন্তোষের স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করেন।
বিজ্ঞাপন
এই সময় সন্তোষের তিন সন্তান এবং বাড়িতে থাকা এক ভাগ্নে ঘুম থেকে জেগে পুরো ঘটনা দেখে ফেলে। ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষের নির্দেশে তার তিন সন্তান ও ভাগ্নেকেও হত্যা করা হয়।
সেই রাতে এক ব্যক্তি ও চার শিশুসহ মোট পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। আলওয়ারের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।








