যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা: আকাশসীমা বন্ধ করে মহড়ার ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করেছে দেশটি।
বিজ্ঞাপন
ইরানি কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটেমে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন আকাশসীমায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বেসামরিক ও অন্যান্য বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার নিচে কোনো বিমান প্রবেশ করলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সরকারি ঘোষণায় আরও জানানো হয়েছে, উল্লিখিত এলাকাজুড়ে লাইভ-ফায়ার বা বাস্তব গোলাবারুদ ব্যবহার করে সামরিক মহড়া পরিচালিত হবে। এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একটি নৌবহর প্রবেশ করে। পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম) অঞ্চলে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণাও দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত বছর ইরানকে ঘিরে সীমিত সময়ের সামরিক সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এ এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি








