ইরান ইস্যুতে দ্বিধায় পাকিস্তান : নীরবতার আড়ালে কী কৌশল?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে ঘিরে এক জটিল কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অঞ্চলে সংঘাত তীব্র হলেও ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নীরব, যা আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইরান ইস্যুতে সরাসরি কোনো অবস্থান না নিয়ে পাকিস্তান যেন এক ধরনের ‘অপেক্ষার খেলা’ খেলছে। একই সময়ে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটি। অথচ সৌদি আরবের নিরাপত্তা কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার মতো বড় ঘটনাগুলোতে দৃশ্যমান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না ইসলামাবাদ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, তারা পাল্টা জবাব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। সেই অনুযায়ী অঞ্চলজুড়ে একাধিক হামলা চালিয়েছে তেহরান। তবে আশ্চর্যজনকভাবে পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনায় এখনো আঘাত হানেনি ইরান, যদিও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি স্থলসীমান্ত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইরানের হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের নীরবতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর হামলা মানে অন্য দেশের ওপরও আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান একাধিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত থাকলেও সরাসরি ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়ানোর মতো অবস্থান নেয়নি দেশটি। একইসঙ্গে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি খারাপ না করার কৌশলও স্পষ্ট।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক সিটির বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন
ইরান প্রশ্নে সবচেয়ে বড় চাপের মুখে রয়েছে চীন, কারণ দেশটির জ্বালানির বড় অংশ আসে ইরান থেকে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বেইজিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। পাকিস্তানও চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান ও সৌদি আরব—এই চার শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। তবে এই নীরব কৌশল কতদিন টিকে থাকবে, আর শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ কোন দিকে ঝুঁকবে—তা সময়ই নির্ধারণ করবে।








