লারিজানিকে হত্যায় ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল হবে না: আরাগচি

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার ঘটনায় দেশটির নেতৃত্বে কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
বিজ্ঞাপন
আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও বুঝতে পারেনি যে ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। তার ভাষায়, দেশটিতে শক্তিশালী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা একজন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিরা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তবে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এতটাই সুসংগঠিত যে কোনো একজনের মৃত্যুতে তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নেই।
বিজ্ঞাপন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর মতো বড় ঘটনাতেও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং দ্রুত বিকল্প নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে অন্য কোনো শীর্ষ নেতার মৃত্যু হলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সচল থাকবে বলে জানান তিনি।
৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ছিলেন আলী খামেনি ও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। গত ১৬ মার্চ রাতে এক হামলায় তিনি নিহত হন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিকে তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অধীন বাসিজ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানিও সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন। ছয় বছর ধরে তিনি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড যুদ্ধের স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে পড়ে না। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদী আচরণের সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি আরও বলেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় একজন নেতার মৃত্যুতে তা ভেঙে পড়বে না, তবে ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক হামলার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকারে আরাগচি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বৃহত্তর অঞ্চলে সংঘাত বাড়লেও তা তেহরানের কাম্য নয়। তার দাবি, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি; বরং যুক্তরাষ্ট্রই এর জন্য দায়ী এবং এর মানবিক ও আর্থিক পরিণতির দায়ও তাদের বহন করতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা








