পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত: আরাগচি

পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের অবস্থান পরিবর্তিত হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
আরাগচি বলেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্রসহ ব্যাপক প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির বিরোধী ছিলেন এবং ২০০০ সালের দিকে এ বিষয়ে ফতোয়া জারি করেছিলেন। তিনি জানান, ইরান এখনো সেই ফতোয়া মেনে চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি’র আড়ালে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। বর্তমানে দুই দেশের সঙ্গে ইরানের যে সংঘাত চলছে, তার পেছনেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি অন্যতম ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা হয়। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে অভিযান চালায়।
সংঘাতে ইরানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ইরানে ২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল এবং সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তেহরান। এই হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। নতুন নেতৃত্ব পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে পূর্বসূরির নীতিই অনুসরণ করবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আরাগচি বলেন, কোনো ফতোয়ার কার্যকারিতা নির্ভর করে সেটি কোন ইসলামি আইনবিদ জারি করেছেন তার ওপর। তিনি আরও জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতার আইনগত বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে মন্তব্য করার অবস্থানে তিনি নেই।
সূত্র: রয়টার্স








