যুদ্ধের সময় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাঠানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ফাঁসি রোববার কার্যকর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ইরানের বিচার বিভাগের অধীন সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনের বরাতে জানা যায়, মোশতবা কিয়ান নামের ওই ব্যক্তি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প-সম্পর্কিত গোপন তথ্য বিদেশি পক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন। রোববার ভোরে একটি কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৪০ দিনব্যাপী চলা সংঘাতের সময় তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানও অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালায়।
যুদ্ধ চলাকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দণ্ড কার্যকরের ঘটনা এটিই প্রথম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে যেসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, সেগুলো যুদ্ধ শুরুর আগের অপরাধের মামলায় ছিল।
মিজান অনলাইন আরও জানায়, কিয়ান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রতিরক্ষা শিল্পের কারখানার অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠিয়েছিলেন। এসব তথ্য স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্কেও পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে একটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। গ্রেপ্তারের ৫০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বিদ্রোহ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দোষী দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি।








