Logo

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি: ২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ মে, ২০২৬, ১৩:২২
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি: ২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন তেলের দাম
প্রতীকী ছবি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিচুক্তি ‘কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করার পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের যে দর চলছে, তা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেল বিক্রি হয়েছে ৯৭ দশমিক ৭৯ ডলারে। আগের দিনের তুলনায় এর দাম কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ ডলার, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সোমবার প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয়েছে ৯০ দশমিক ৮৫ ডলারে। রবিবারের তুলনায় এর দাম কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ ডলার বা প্রায় ৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যে সমঝোতা-সংলাপ শুরু হয়েছিল— তা অনেকদূর এগিয়ে গেছে। যদি একবার শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়— তাহলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ফের আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর থেকে কমতে শুরু করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে ব্রিটিশ বাজার বিশ্লেষক সংস্থা এমএসটি মার্কি’র বিশ্লেষক সাওল ক্যাভোনিক বলেন, “শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সমস্ত সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি আনবে।”

বিজ্ঞাপন

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইএনজির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারস রয়টার্সকে বলেন, “হিসেব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শনিবারের বক্তব্যের পর তেলের দাম আরও হ্রাস পাওয়ার কথা ছিল। তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আগেও একাধিকবার এমন আশা জাগিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর পূরণ হয়নি। তাই এবার বাজারের বিক্রেতারা অনেক সতর্ক অবস্থায় আছেন। যদি সত্যিই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়— কেবল তাহলেই বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।”

এদিকে ব্রিটিশ বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ফিলিপ নোভার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। গত সপ্তাহে সেই অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম ৬ শতাংশ কমে যাওয়া বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : রয়টার্স

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD