Logo

বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসে ট্রাম্প, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হচ্ছেন মার্কিন সেনারা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪:২৭
বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসে ট্রাম্প, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হচ্ছেন মার্কিন সেনারা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ, তখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানে প্রাণ হারাচ্ছেন মার্কিন সেনারা। একদিকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের জমকালো আয়োজন, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এই দুই ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিকে ঘিরে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আয়োজনটিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছে। আকাশে টহল দিচ্ছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, ছাদে মোতায়েন রয়েছে স্নাইপার দল। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে শত শত ড্রোনও জব্দ করেছে এফবিআই।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প রসিকতার ছলে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে একাই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে। তার প্রশাসনও এই বিশ্বকাপ আয়োজনকে দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন বলে দাবি করেছেন।

তবে ফুটবল উৎসবের এই আবহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত রয়েছে সামরিক সংঘাত। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মধ্যে শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন এবং একজন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও সেন্টকম ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেনি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটি।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলা প্রতিরোধের সময় ওই সেনারা নিহত হন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৩০ জনের বেশি। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজ শুরু থেকেই দেশবাসীকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং আরও প্রাণহানির আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছেন, এ ধরনের বড় সামরিক অভিযানে হতাহতের ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী এই সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন জনমতের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হেগসেথের ভাষ্য, সেনাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প নিহত সেনাদের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে পুনরায় বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন হামলা ও দুর্ঘটনায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মার্চে কুয়েতে ড্রোন হামলা, ইরাকে বিমান দুর্ঘটনা, জুলাইয়ে আরব সাগরে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়া এবং সর্বশেষ জর্ডানে হামলার ঘটনায় মোট ১৬ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের উৎসবে যখন হাজারো দর্শক মেতে উঠবেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনা পরিবার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আরও দুঃসংবাদের আশঙ্কায় অপেক্ষা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতি ও প্রাণহানির ঘটনাও এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল জাজিরা ও দ্য টেলিগ্রাফ

জেবি/জেএইচআর/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD