Logo

মার্কিন হামলায় ইরানের ২০ গ্রামের মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ জুলাই, ২০২৬, ১৪:১১
মার্কিন হামলায় ইরানের ২০ গ্রামের মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

টানা সাত দিন ধরে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের একটি পানি পরিশোধন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামজেহ পুর জানান, জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামের একটি পানি পরিশোধন পাম্পে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। এতে ওই এলাকার প্রায় ২০টি গ্রামের ১০ হাজার বাসিন্দার জন্য সুপেয় পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পুর এই মার্কিন হামলাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলার ফলে সমুদ্র থেকে পানি তোলার একটি পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্রামের বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি অংশে আগুন লেগেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এর ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এজন্য কেন্দ্র ও এর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে সঙ্গেই সব কার্যক্রম ও জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও পানি উভয় নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিষেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও কার্যক্রমগত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে টানা ৭ রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) নির্দেশনা মেনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী হামলা অব্যাহত রাখলে ইরান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হবে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাতের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি একই ধরনের হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান শুধু পাল্টা হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে অংশ নেবে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD